আমার তৈরি প্রথম ডিজাইন করা ছবি,



বিশ্বাস করুন,আমি কবি
হতে আসিনি,আমি নেতা হতে আসি নি-আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম,প্রেম পেতে এসেছিলাম-সে প্রেম পেলামনা বলে আমি এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চির দিনের জন্য বিদায় নিলাম।
_কাজী নজরু ইসলাম

‘একটা ভালো সিট দেন, আমার বোন যাবে’

সকাল ৮টা। মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের ‘এনা’ পরিবহনের কাউন্টারে টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ময়মনসিংহ যাবো। অনেক পেছন থেকে যখন প্রায় সামনে চলে এসেছি, তখন দেখি আমার দুই তিনজনের সামনের যুবক বলছিলেন- ‘ভাই, আমাকে একটা ভালো সিট দেন। আমার বোন যাবে।’

আমি আমার টিকেটের জন্য ব্যস্ত হয়ে আছি। যাক একটা টিকেট পেলাম। মোটামুটি মাঝের দিকেই সিট। এমনিতেই বাস কম। তার মধ্যে ভালো একটা গাড়ির ভালো জায়গাতেই সিট পেয়েছি। ১৯ নম্বর গাড়ি এখনো স্ট্যান্ডে আসেনি। কাউন্টারের ওয়েটিং রুমে বসে আছি। আমার সামনেই বোনের জন্য টিকেট কাটা ছেলেটা বসে আছে। তার বোনকে আশপাশে দেখতে পেলাম না। খটকা লাগলো।

কিছুদিন আগে জনৈক
লিখেছিলেন- ‘এখনকার কিছু পোলাপাইন খুব ফাজিল। এরা বাসে কোথাও গেলে টিকেট কাটে বোনের নামে, আন্টির নামে, খালার নামে। বাস ছাড়ার আগ মুহূর্তে বাসে উঠে মেয়ের পাশে বসে সুন্দর করে চলে যায়।’

কিছুক্ষণ লক্ষ্য করার পরে মনে হলো, ছেলেটার কোনো বোন নাই মনে হয়। মেয়ের পাশে বসে যাওয়ার ধান্দায় সিস্টেমে টিকেট কাটছে। তো আমার বাস চলে আসার পরে উঠে পড়লাম। বাস চলতে শুরু করলো…ঘুম ঘুম ভাব চলে আসছিল। হঠাৎ চিল্লাচিল্লির শব্দে চোখ মেলে দেখি সেই ‘বোনের’ জন্য টিকেট কাটা ছেলেটা।

সামনের দিকের সিটে দাঁড়িয়ে চিল্লাচিল্লি করতেছে। সুপারভাইজারকে পলিথিন দিতে বলতেছে। ছেলেটা আবার একটু জোরে গলায় বলতেছে ‘এই বয়সে আপনে একা একা চলেন কেন?’

ঘটনা কি দেখার জন্য দাঁড়িয়ে দেখি ছেলেটার গায়ে বমির ছিটেফোঁটা, আর তার সহযাত্রী এক বৃদ্ধা নারী বমি করতেছে…।

…মাহতাব হোসেনের ফেসবুক থেকে


একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প

ভীষণ কিউট দেখতে মেয়েটি। ফেসবুক একাউন্ট খুলতে খুলতে সে অনেক দেরি করে ফেলেছে। কিন্তু তাতে কি! খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সে পেয়ে গেছে প্রায় সাতশ’র মতো বন্ধুতার আহবান। তার ইনবক্স ভর্ত্তি এত্ত এত্ত ক্ষুদেবার্তায়। অপরিচিত কারও বন্ধুতার আহবানে মেয়েটি সাড়া দেয় না। উত্তর দেয়না অপরিচিত কারও কাছ থেকে আসা ক্ষুদেবার্তারও। পাছে খাল কেটে কুমির আনা হয়ে যায়- এই ভয়ে।
একদিন হলো কি, মোটা কাচের চশমা পরা একটা ছেলের কাছ থেকে একটা বন্ধুতার আহবান এলো। একদম অচেনা ছেলেটি। তবুও কেন কে জানে মেয়েটি গ্রহণ করে ফেলল তার বন্ধুতার আহবান! 
তারা বন্ধু হলো। তাদের মধ্যে প্রায়ই ফেসবুক-মেসেঞ্জারে কথোপকথন হয়। কিন্তু একটাই সমস্যা। দু’জনের কথোপকথনের মাঝখানে ছেলেটি প্রায়ই ভুলভাল ইমো ব্যবহার করে বসে। যেমন, যখন মেয়েটি লেখে খুব সুন্দর একটা ড্রেস কিনেছি আজ, তখন উত্তরে ছেলেটি পাঠিয়ে দেয় মুখ বেজার করা একটা ইমো। তারপর এই ধরুন, অন্য আর একদিন মেয়েটি যখন লিখেছে জানো আমার খুব মন খারাপ, তখন ছেলেটি ছেড়ে দেয় একটা হাসির ইমো। মেয়েটি রেগে গিয়ে বলে, ‘এই ছেলে, তুমি উল্টাপাল্টা ইমো দাও কেন?’
‘কি করব বলো? আমি তো ঠিক মতো দেখতে পাই না চোখে। একটা বাটন চাপতে গিয়ে আর একটা চেপে ফেলি।’ বলে ছেলেটি।
মেয়েটিও যেন কেমন! ছেলেটি চোখে ঠিকমতো দেখতে পায়না শুনে কোথায় মন খারাপ করবে তা না, পাঠিয়ে দেয় একটা হাসির ইমো। 
এভাবেই চলে গেল যায় বছরখানেক।
মেয়েটি একদিন ছেলেটিকে বলে, ‘তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
ছেলেটি বলে, ‘অসম্ভব। আমি তোমার সামনে যাব না। মরে গেলেও না।’
সত্যি বলতে কি, ছেলেটির ভয় ছিল সামনাসামনি মেয়েটা তাকে দেখলে হয়তো মেয়েটি তাকে অপছন্দ করে দূরে সরে যাবে, আগের মতো আর কথোপাকথন হবে না, তাদের এই অম্লমধুর সম্পর্কটারও ইতি ঘটবে। তাই যেতে রাজি হয় না প্রথমটাতে। কিন্তু মেয়েটাও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। ছেলেটিকে রাজি করিয়ে ফেলে, যেভাবেই হোক।
অবশেষে একদিন এলো সেই বিশেষ দিনটি।
রমনা পার্কের বেঞ্চে মেয়েটি বসে আছে। ছেলেটিরও এখানে আসার কথা রয়েছে। আজই প্রথম তারা একজন আর একজনকে দেখবে। সামনাসামনি। এক সময় মেয়েটা দেখতে পেল, চোখে মোটা আর ঘোলা কাচের চশমা পরা ছেলেটা আসছে, তার চোখ মাটির দিকে। যেন হারিয়ে ফেলা কোন কিছু খুঁজে ফিরছে! মেয়েটি তাকে দেখেই চিনতে পারল। কিন্তু একি! ছেলেটি চলে যাচ্ছে তাকে পাশ কাটিয়ে, তাকে পিছনে ফেলে। লজ্জার মাথা খেয়ে মেয়েটি জোরে বলে উঠল, ‘এই ছেলে, কোথায় যাচ্ছ? আমি এখানে।’
ছেলেটি খুব লজ্জা পেয়ে বললো, ‘তুমি তো জানোই, আমি চোখে দেখি না ঠিকমতো।’
তারপর অনেকটা সময় কাটল পার্কের বেঞ্চিতে বসে। দু’জনে অনেক কথা হলো। তার অধিকাংশই এলোমেলো, ভীষণ রকমের অদরকারী। ঘড়ির কাঁটাগুলোও যেন বদ্ধ উন্মাদ, ত্রিশ সেকেণ্ডেই বানাতে লাগল এক একটা মিনিট। 
সন্ধ্যা ঘনানোর আগে মেয়েটি উঠে দাঁড়াল চলে যাবে বলে। হাঁটা শুরু করার আগে বললো ছেলেটিকে, ‘তোমাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। তোমার হাত দু’টো একটু ধরতে দেবে?’
ছেলেটি চশমা খুলে চোখ মুছল।
‘এ কি, কাঁদছ কেন! তোমার তো খুশি হওয়ার কথা।’ বিস্মিত মেয়েটা জিজ্ঞেস করল।
‘সব সময় তো আমি ভুল ইমো’ই দিই। আজও না হয় তা’ই দিলাম।’ বললো ছেলেটি। তারপর হেসে উঠল।
বলতে ভুলে গেছি। রমনা পার্কে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ঠিক এক বছর আগের আজকের এই দিনটাতে। দিনটা ছিল ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৩। বৃহষ্পতিবার।

আমার প্রথম বাসর রাত

বাসর রাত। সবার জীবনে এই রাতটি নাকি অনেক স্বপ্নের, অনেক আশার। ওসব ভাবনার নিকুচি করে ‘বাসরীয়’ বাসনা নিয়ে সাজানো বাসর ঘরে ঢুকলাম। আহা! নতুন বউ কত না প্রশান্তি নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

দরজা খোলাই ছিল। ভেতরে প্রবেশের পরই লাগিয়ে দিলাম। মনে অন্যরকম অনুভূতি। নিজের ঘরটা নিজেই চিনতে পারছি না। যা সুন্দর করে সাজানো! ওরা পারে বটে- গাঁদাফুল দিয়ে সাজালেও গোলাপের সংখ্যা কম নয়, রজনীগন্ধাও আছে। তবে গোলাপের ঘ্রাণটাই প্রকট। ভ্রমর আসতে পারে বৈকি! মনে মনে হাসলাম- নিজেইতো ভ্রমর।

মন থেকে কিছুতেই এই ছটফটানি ভাবটা দূর করতে পারছি না। একবার ভাবলাম বাতিটা নিভিয়েই বিছানায় যাই! পরে চিন্তা করে দেখলাম- নাহ, দরকার নেই। মন বললো- ভদ্রতাই বংশের পরিচয়। পরিণয় বা প্রেমঘটিত বিয়ে হলে বোধকরি এতটা উত্তেজনা থাকতো না।

বিছানাটার দিকে তাকিয়ে আরো বেশি অবাক হলাম। পুরোটা ফুল দিয়ে ঢেকেছে ওরা। এমনকি বিছানায় প্রবেশের জন্যই ফুল দিয়ে আরেকটা দরজা বানিয়েছে। ভেতরে কে আছে বোঝার উপায় নেই।

বিছানার পাশে গিয়ে নতুন বউকে মধুর
সুরে ডাকলাম- জেসমিন, জেসমিন।

কোন সাড়া নেই। ভাবছি ঝট করে নির্লজ্জের মতো বিছানায় উঠে পড়া ঠিক হবে না। দুলাভাই যা শিখিয়ে দিয়েছেন সেই টিপস অনুযায়ী জেনেছি- বাসর ঘরে নববধূ স্বামীকে সালাম করে।

তাই আর বিছানায় ওঠা সমীচীন মনে করলাম না। ও নেমে এসে সালাম করবেই। আর আমিও থাক, থাক বলে ওর শরীর স্পর্শ করবো। বাকি কাজের প্রস্তুতি ওভাবেই নেব।

নাহ, তবুও বের হয় না। আর কত প্রতীক্ষা- সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বোধকরি বউ আমার বাসর ঘরেই ঘুমিয়ে পড়েছে।

আশাভঙ্গ হয়ে বিছানায় উঠলাম। ওমা একি! আমার বউ গেল কই? বিছানায় কেউ নেই। এক্কেবারে ফাঁকা। হায় হায়রে পালাবিতো বিয়ের আগে পালা। কবুল বলে আমায় কুরবানি করে পালালি কেন? এ মুখ আমি কোথায় দেখাব?

এখন কি করব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। বিছানায় একটু হেলান দিয়ে মায়ের উপর মেজাজটা ভীষণ বিগড়ে গেল। সব দোষ মায়ের। মা আমাকে বাড়িতে ডেকে আনলো ছোট চাচার বিয়ের কথা বলে। বাড়ি এসে সকল আত্মীয়-স্বজনকে দেখে খুশি হলাম। রাতে লম্বা সফর করে এসেছি তাই একটা টানা ঘুম দিয়েছিলাম। বাড়িতে কি হচ্ছে না হচ্ছে তার খোঁজ রাখিনি। 

দুপুরে ঘুম থেকে উঠে সে কি খেলাম। পরে যখন সবাই এসে বললো- চল গায়ে হলুদ দিতে হবে। দুপুরে গায়ে হলুদ, রাতেই বিয়ের পর্ব শেষ।

বললাম- যাও তোমরা আমি যাব না। যার বিয়ে সেই চাচা কই? আসার পরে তো দেখলাম না। চাচীর ছবিটাও দেখালো না।

সবাই হাসতে শুরু করলো- কারণটা বুঝলাম না। পরে বুঝলাম বিয়ে আর কারো নয়, আমারই! প্রেমপ্রস্তাবে বহুবার ব্যর্থ হয়ে পণ করেছিলাম- কোনদিন বিয়ে করবো না। মা আমার সেই পণ রক্ষা করতে দিল না। সর্বনাশটা করেই ছাড়লো। বউয়ের ছবিটা পর্যন্ত দেখিনি। কেবল নামটা জেনেছি- জেসমিন।

বিয়ের পর্বেও দেখা হয়নি। সেই অদেখা জেসমিন বাসর রাতে আমাকে ছেড়ে পালালো। কি অপরাধ ছিলো আমার?

এমন সময় দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম। নিজে যে দরজা লাগিয়েছিলাম- সেই দরজা খুলছে কিভাবে বুঝলাম না। ওহ, ভুলেই গিয়েছিলাম- বিভীষণের মত ঘুমাই বলে মা আমার দরজার লক নষ্ট করে দিয়েছে। শব্দ শুনে ধরপর করে বিছানা থেকে উঠলাম। নামতে গিয়ে পায়ের সাথে কাপড়ের মত কি যেন লাগলো- তা লাথি মেরে ফেলে দিলাম।

দরজায় যাওয়ার আগে দেখি মা দরজা খুলে দাঁড়িয়েছে। মায়ের মুখে হাসি।

আমার পিত্তি জ্বলে গেলো। নিজেও উপহাসের হাসি হেসে বললাম- দিয়েছতো বিয়ে, এবার সামলাও। কত বার বললাম- কয়েকটা বছর দেরি করে বিয়ে করি।

মা রেগে বললো, ত্রিশতো পার করেছিস। চল্লিশও পার করবি নাকি। মা জেসমিন- একে কিভাবে শায়েস্তা করতে হবে তার সবইতো তোমায় বুঝিয়েছি। যেমনি বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল হতে হবে। এসো এদিকে এসো। পেছন থেকে সামনে এলো জেসমিন।

মায়ের গালিতেও মনটা ভরে গেলো। যাক, বউ আমার পালায়নি। সে আছে, সে আছে। জেসমিনকে দেখে আরো মুগ্ধ হলাম। মায়ের পছন্দে বহুগুনে জিতেছি। ভালো আঁচলেই মা আমাকে বেঁধে দিয়েছে। দু’চোখ ভরে দেখার মত বউ জেসমিন। অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়েছিলাম। মা’ই ঘোমটাটা সরিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু একি, বউ আমার রাগছে কেন? মনে হয় যেনো ফোঁস ফোঁস করছে। মাকে উদ্দেশ্য করে সে বললো- মা ঠিকই বলেছেন, আপনার ছেলের কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই। দেখুন অবস্থা। 

মা ওর কথা শুনে খেয়াল করলো এবং ভীষণ চটে গেল।

মা আর বউয়ের রাগের কারণটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না।

মা বললো- তুই বেখেয়ালি কাণ্ডজ্ঞানহীন এটা জানি কিন্তু বেহায়া এটা আজ বুঝলাম। বউয়ের সামনে বিনা কাপড়ে দাঁড়া। তাই বলে মায়ের সামনে এলি পাজামা ছাড়া! বেশরম।

এতক্ষণে খেয়াল করলাম। পড়নে পাজামা নেই। উপরে শেরওয়ানি ভেতরে অন্তর্বাস! আসলে বিছানা থেকে নামার সময় উটকো কাপড় ভেবে যেটা লাথি মেরে ফেলেছি সেটা পাজামাই ছিল! এটা পড়ার অভ্যাস নেই। বিয়ের কারণেই পড়া। যাহোক কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম। 

চেতনা আসতেই যেদিকে তা ফেলেছিলাম সেদিকে দিলাম ছুট। তাড়াহুড়ো করে পড়তে গিয়ে পাজামার ফিতের খেই হারিয়েছি। এক অংশ বাইরে অপর অংশটি একেবারে ভেতরে চলে গেছে। 

তাই হাত দিয়ে পাজামা আঁকড়ে ধরে আলনার দিকে হাঁটা দিলাম। সেখানে রাখা নতুন একটা লুঙ্গি হাতে নিলাম। পড়তে গিয়ে দেখি- সেলাইবিহীন! সব কাজ মায়ের- নতুন বউ এনে দিয়েছে, ঘরটা নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে, পুরনো কিছুই রাখেনি। একটা পুরনো ছেঁড়া লুঙ্গিও যদি পেতাম বাসর ঘরে ইজ্জতটা রক্ষা হতো! যাহোক শেরওয়ানির নিচে ওটাই পড়ে নিলাম। মন্দ লাগছে না!

ওদিকে মা আর বউ’র সে কি আনন্দ! মনে হয় কোনো কৌতুক অভিনেতার অভিনয় দেখছে আর হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। হাসির শব্দে পুরো বাড়ির লোকজন আসতে শুরু করেছে। মা বিষয়টা খেয়াল করে জেসমিনকে বললো- সামলাও মা আমার এ পাগল ছেলেটাকে। দরজা লাগিয়ে দাও বলে মা চলে গেল।

জেসমিন ছিটকিনি দিয়ে ঠিক-ঠাক মতই দরজা লাগালো। বন্ধ দরজা, সে আর আমি অনুভূতি চরমে।

সে আমার দিকে এগিয়ে এলো- আমি স্থির দাঁড়িয়ে আছি। কোন নড়াচড়া নেই। ও কাছে আসতেই বললাম- না, থাক থাক।

ও বললো- থাকবে কেন? দিন মোবাইল দিন। যেন ধমকালো। 

ঠিকই বুঝেছি এ মেয়ে সুবিধার না! যে কিনা বাসর রাতে স্বামীকে একা ফেলে শাশুড়ির সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে যায়- সে আর যাই হোক ভালো নয়।

এত ভাবার সময় দিল না। নিয়ে নিল। এরপর আমার হাত ধরে বিছানার দিকে টেনে নিল, আমি ওতেই মহাখুশি। মনটা কেমন যেন দোল দিয়ে উঠলো। বিছানায় ও আর আমি পাশাপাশি। তারপরও আমার দিকে তার মনোযোগ নেই। মোবাইলে কি যেন খুঁজছে। পেলোও বটে- এক নারীর মেসেজ।লেখা- ‘ভাই চলে আসেন। কোনো সমস্যা নেই’।

সেটা আমায় দেখালো। আমি বুঝিয়ে বললাম- আমার কলিগ। অফিসে একদিন দেরি করেছিলাম তাই ওকে ফোন দিয়ে বলেছিলাম- বস যখন অন্যদিকে মন দেবে তখন জানাবে। ও সময়-সুযোগ মত এটা জানিয়েছিল।

জিজ্ঞেস করলো- বিবাহিতা না অবিবাহিতা।

বিবাহিতা জবাব দিলাম।

কেসটা কি পরকীয়া?

ছিঃ ছিঃ তুমি এসব কি বল? একটু রেগে গেলাম পাত্তাই দিল না।

বললো- আপনার ল্যাপটপটা অন করুন। খুব নাকি ফেসবুকিং আর ব্লগিং করেন। দু’টোরই পাসওয়ার্ড দিন।

আমি রেগেই ছিলাম। একটু আগে যে কামনায় উসখুশ করছিলাম তা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। তারপরও কোনো কথা না বলে টেবিল থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে পাসওয়ার্ড, মেইল ও নিক সব কাগজে লিখে দিলাম।

ও প্রথমে ফেসবুকে ঢুকে প্রোফাইলটা বিবাহিত বানিয়ে দিল। ম্যারিড উইথ জেসমিন...এরপর ব্লগে কি যেন ঘাটাঘাটি করলো। ফেসবুকে কার কার সঙ্গে যেন চ্যাট করলো।

এসব দেখে মনে মনে যদিও রেগে গিয়েছিলাম তবুও ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রাগটা কেন যেন কমে গেলো। এভাবে নিজের জায়গায় কোন মানবীকে দেখিনি কখনো। মুগ্ধতা বেশিক্ষণ রইলো না- আমার সেই কলিগ ভদ্রমহিলা এই রাতে ফোন দিয়ে বসলো।

ও বললো- রিসিভ করছেন না কেন?

ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সেই ভদ্রমহিলা বললেন, আপনার সঙ্গে কথা নেই। ভাবীকে দিন, এখনই ঊনার সাথে চ্যাট করলাম।

ফোন নিয়ে ও কথা বললো। কুশলাদি বিনিময় করে ফোন রেখে দিয়ে বললো- ফোন অফ করুন। 

ল্যাপটপও নিজেই বন্ধ করলো।

এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করলো- এতদিন বিয়ে করতে চাননি কেন?

আর আবেগ সংবরণ করতে পারলাম না। হু হু করে কেঁদে উঠলাম। কেঁদে কেঁদে বললাম, জেসমিন সত্যি বলছি। কেউ আমাকে ভালোবাসেনি বলে বিয়ে করিনি। ভেবেছিলাম ভালবেসেই বিয়ে করবো। কিন্তু হয়নি। বার বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। কেঁদে ওর বুক ভিজিয়েই দিয়েছি। আবেগের চোটে ভুলেই গিয়েছি- কোন নারীর বুকে মুখ রেখে কাঁদছি।

ও আমার বিব্রতকর অবস্থা বুঝে নিজে থেকে লাইট অফ করে বললো; এমন মানুষকে কেউ ভালো না বেসে পারে। দেখবেন আমি সারাজীবন ভালোবাসবো।